[t4b-ticker]

ভারতকে ধন্যবাদ জানানো উচিত

লেখক:
প্রকাশ: May 16, 2022

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) গ্রেপ্তার করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। কারণ সে (পি কে হালদার) এ দেশের চিহ্নিত অর্থপাচারকারী।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

দেশের আর্থিক খাতে আলোচিত নাম পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেন, আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার- দুর্নীতি ও অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। কোন ধরনের দুর্নীতি ও অর্থপাচারকারীকে প্রশ্রয় দেবো না। তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীদের ব্যাপারে আমরা খুবই সিরিয়াস।

হাইকোর্টের মন্তব্যের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। মানিলন্ডারিং মামলায় গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত রিট মামলার ওপর রুল শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

এরআগে হাইকোর্টের জারি করা এ-সংক্রান্ত স্বপ্রণোদিত রুল শুনানির জন্য আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন ও দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সিনিয়র আইনজীবী খুরশিদ আলম খান শুনানি করেন। গত শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ৩৭ মামলার আসামি ও এনারবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি পি কে হালদার এবং তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে এ খবর প্রকাশের পরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, পি কে হালদারের গ্রেপ্তার বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না। এরইমধ্যে পি কে হালদারকে আদালতে তুলে রিমান্ড আবেদন করা হলে তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

এদিকে মেডিকেল চেকআপ শেষে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তর থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের পি কে হালদার বলেন, তিনি এখন দেশে ফিরতে চান। পি কে হালদারকে মঙ্গলবার সে দেশের আদালতে পেশ করা হবে। তাই সোমবার ফের মেডিকেলে চেকআপ করতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল তাকে। ফেরার পথে সাংবাদিকরা পি কে হালদারকে প্রশ্ন করেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান কি না? এর উত্তরে প্রথমে চুপ থাকলেও লিফটে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, দেশে ফিরতে চান। ইডি বা সিবিআই কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করলে আদালতে পেশ করার আগে একবার তার মেডিকেল চেকআপ করায়। এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার গ্রেপ্তার ছয়জনকে মেডিকেল চেকআপ করানো হয়েছিল।

এরপর সোমবার দ্বিতীয়বার আবার চেকআপ করানো হয়। এর আগে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পি কে হালদারকে। প্রথমদিকে সহযোগিতা না করলেও পরবর্তীতে তিনি ইডি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে। পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের আলাদাভাবে জেরা করা হয়। প্রায় ৪০টিরও বেশি প্রশ্নের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সে অনুযায়ী পি কে হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমবার জিজ্ঞাসাবাদে পি কে হালদার খুব একটা সহযোগিতা না করলেও দ্বিতীয়বারের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইডি কর্মকর্তাদের সামনে ভেঙে পড়েন। এ সময় তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

ইডির চার কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সারাদিন ধরে ইডির কর্মকর্তারা পি কে হালদারসহ তার সহযোগীদের বিভিন্ন অফিসে হানা দেন এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেন। বর্ধমানের কাটোয়া, উত্তর২৪ পরগনা ও দক্ষিণ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পি কে হালদার, উত্তম মিত্র, প্রিতিশ হালদার ও প্রিতিশ হালদারের স্ত্রী ও জামাতা সঞ্জীব হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের সল্টলেকের সিজিও কম্প্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। মেডিকেল চেকআপের পর অনলাইনে ব্যাঙ্কশাল সিবিআইয়ের স্পেশাল কোর্টে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে আদালতের কাছে পি কে হালদারসহ পাঁচজনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে ইডি। আদালত পাঁচজনকে ইডির হেফাজতে দেয় ও এক নারীকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ১৭ মে ব্যাঙ্কশাল সিবিআই স্পেশাল কোর্টে তাদের আবার হাজির করা হবে। মনে করা হচ্ছে প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২১ থেকে ২২ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হবে। বিশেষজ্ঞ মহল ধারণা করছেন, ইডি শুধু আর্থিক কেলেঙ্কারি তদন্ত করবে। বেআইনি পাসপোর্ট, ভিসা, আঁধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড তৈরি করার জন্য সিবিআইয়ের হাতেও তাদের তুলে দেওয়া হতে পারে।